সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক পাহারা সত্ত্বেও
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় কিছু দালালের সহযোগিতায় নৌকায় করে নাফ নদী পেরিয়ে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ উখিয়ার থাইংখালী থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতার অভিযোগে দুজনকে (দালাল) আটক করেছে। এ সময় ৬২ জন রোহিঙ্গাকেও আটক করা হয়। একই সময় টেকনাফ থানার পুলিশ উপজেলার হ্নীলা থেকে ২ দালালসহ ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে।
বিজিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান দুপুরে কক্সবাজারে মিয়ানমারের বিজিপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে বিজিপির প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের কিছু ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্বীকার করেছে। ভয়ে কিছু কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কথাও তাঁদের জানা আছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত হলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ তাঁরা বন্ধ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
সকালে টেকনাফের নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া ও নয়াপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমার সীমান্তে লোকবোঝাই ১০-১২টি নৌকা ভাসছে। এপারে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। উখিয়ার পালংখালী, বালুখালী অংশেও কয়েকটি নৌকা দেখা গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পে ঝুপড়িঘরের সামনে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা জড়ো হচ্ছে। রোহিঙ্গা গৃহবধূ মদিনা বেগম (২৬) বলেন, মংডুতে পুলিশ তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বেঁচে আছেন কি না, জানেন না। তাই প্রাণের ভয়ে ভোরে নৌকায় টেকনাফে পালিয়ে এসেছেন। ওই নৌকায় আরও ১৮ রোহিঙ্গা নারী–শিশু ছিল। সবাই এই ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। মদিনার বাড়ি মংডুর কাউয়ারবিল গ্রামে।
বিজিবি ও কোস্টগার্ড সূত্র বলেছে, গতকাল ভোরের দিকে মিয়ানমারের রইগ্যাদং থেকে পাঁচটি নৌকায় দুই শতাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফের রঙ্গিখালীতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। বিজিবি তিনটি নৌকায় থাকা শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে। অন্য রোহিঙ্গারা নাফ নদীর মাঝামাঝি চলে যায়। আটক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, আগে এ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা ছিল প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ৩০ হাজার। গত তিন দিনে এখানে যোগ হয়েছে আরও কয়েক শ রোহিঙ্গা পরিবার। তাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।
কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট নাফিউর রহমান বলেন, নাফ নদীজুড়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছেন। মিয়ানমার সীমান্তে নৌকা নিয়ে লোকজন অবস্থান করলেও কাউকে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ বলেন, গত রাতে টেকনাফের জাদিমুরা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতার অভিযোগে শাহ আলম ও রহিম উল্লাহ নামে দুই দালালকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় নয়জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।
দুপুরে উখিয়ার কুতুপালংয়ের অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে অনুপ্রবেশকারী কয়েক শ রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। ক্যাম্পটিতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আবুল কাশিম (৪৮) বলেন, গত সাত দিনে মংডুর খোয়ারিপাড়া, নাইছং, ফাদনছা গ্রামের অন্তত এক হাজার ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। লুটপাট হয়েছে ঘরের হাঁস–মুরগি, গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল। তাই লোকজন পালিয়ে আসছে।
এই ক্যাম্পের তিনটি ব্লকের (এ, বি ও সি) দেখভাল করেন রোহিঙ্গা আবদুল হাফেজ (৪৫)। রোহিঙ্গারা তাঁকে ডাকেন ‘চেয়ারম্যান’ বলে। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পে আগে ছিল ৭ হাজার ১০২ পরিবারের ৫৭ হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা। গত তিন দিনে যোগ হয়েছে আরও দেড় হাজার পরিবারের অন্তত সাত হাজার রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে তিনজন মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের চক্রান্ত চলছে। সেখানে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় না দিলে তারা বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। কারণ, মংডুর রোহিঙ্গাদের নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় নেই।
কুতুপালং ক্যাম্পে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার আশ্রয় নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ওসি বলেন, কুতুপালংয়ের কয়েকটি পাহাড়ে বৈধ-অবৈধ মিলে লাখো রোহিঙ্গার বসতি রয়েছে। ক্যাম্পের বাইরে ঘেরা নেই। রাতে কেউ পাহাড়-জঙ্গল দিয়ে এ ক্যাম্পে ঢুকলে করার কিছু নেই।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তের নাফ নদীর ৬৩ কিলোমিটারে বিজিবির অতিরিক্ত পাহারা বসানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বিজিবি উখিয়ার কয়েকটি পয়েন্ট থেকে ১২৩ জন রোহিঙ্গাকে প্রতিরোধ করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন নারী ও ৫৫ জন শিশু। নিরাপত্তার অভাবে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা পালিয়ে আসছে।
বিজিবি-বিজিপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক: দুপুরে কক্সবাজার সৈকত এলাকায় বিজিবির রেস্টহাউসে বিজিবির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার গার্ড পুলিশ—বিজিপি) ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠকে বিজিবির ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান। বিজিপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মংডুর ১ নম্বর বিজিপির উপপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সন লিন।
বৈঠক শেষে বিকেলে খন্দকার ফরিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মূলত পরিচিত হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সন লিনকে কক্সবাজারে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারপরও বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছে।
বিজিবির সূত্র বলেছে, বৈঠকে বিজিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমারের কিছু সন্ত্রাসী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ধরে যেন মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। জবাবে বিজিবির কমান্ডার বলেন, গত মাসে টেকনাফে দুই সন্ত্রাসীকে আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
খন্দকার ফরিদ বলেন, বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের অশান্ত পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ, ইয়াবাসহ চোরাচালান বন্ধ, নাফ নদী থেকে অপহৃত বাংলাদেশি জেলেদের ফেরত দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় কিছু দালালের সহযোগিতায় নৌকায় করে নাফ নদী পেরিয়ে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ উখিয়ার থাইংখালী থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতার অভিযোগে দুজনকে (দালাল) আটক করেছে। এ সময় ৬২ জন রোহিঙ্গাকেও আটক করা হয়। একই সময় টেকনাফ থানার পুলিশ উপজেলার হ্নীলা থেকে ২ দালালসহ ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে।
বিজিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান দুপুরে কক্সবাজারে মিয়ানমারের বিজিপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে বিজিপির প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের কিছু ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্বীকার করেছে। ভয়ে কিছু কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কথাও তাঁদের জানা আছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত হলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ তাঁরা বন্ধ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
সকালে টেকনাফের নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া ও নয়াপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমার সীমান্তে লোকবোঝাই ১০-১২টি নৌকা ভাসছে। এপারে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। উখিয়ার পালংখালী, বালুখালী অংশেও কয়েকটি নৌকা দেখা গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পে ঝুপড়িঘরের সামনে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা জড়ো হচ্ছে। রোহিঙ্গা গৃহবধূ মদিনা বেগম (২৬) বলেন, মংডুতে পুলিশ তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বেঁচে আছেন কি না, জানেন না। তাই প্রাণের ভয়ে ভোরে নৌকায় টেকনাফে পালিয়ে এসেছেন। ওই নৌকায় আরও ১৮ রোহিঙ্গা নারী–শিশু ছিল। সবাই এই ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। মদিনার বাড়ি মংডুর কাউয়ারবিল গ্রামে।
বিজিবি ও কোস্টগার্ড সূত্র বলেছে, গতকাল ভোরের দিকে মিয়ানমারের রইগ্যাদং থেকে পাঁচটি নৌকায় দুই শতাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফের রঙ্গিখালীতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। বিজিবি তিনটি নৌকায় থাকা শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে। অন্য রোহিঙ্গারা নাফ নদীর মাঝামাঝি চলে যায়। আটক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, আগে এ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা ছিল প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ৩০ হাজার। গত তিন দিনে এখানে যোগ হয়েছে আরও কয়েক শ রোহিঙ্গা পরিবার। তাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।
কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট নাফিউর রহমান বলেন, নাফ নদীজুড়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছেন। মিয়ানমার সীমান্তে নৌকা নিয়ে লোকজন অবস্থান করলেও কাউকে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ বলেন, গত রাতে টেকনাফের জাদিমুরা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতার অভিযোগে শাহ আলম ও রহিম উল্লাহ নামে দুই দালালকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় নয়জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।
দুপুরে উখিয়ার কুতুপালংয়ের অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে অনুপ্রবেশকারী কয়েক শ রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। ক্যাম্পটিতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আবুল কাশিম (৪৮) বলেন, গত সাত দিনে মংডুর খোয়ারিপাড়া, নাইছং, ফাদনছা গ্রামের অন্তত এক হাজার ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। লুটপাট হয়েছে ঘরের হাঁস–মুরগি, গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল। তাই লোকজন পালিয়ে আসছে।
এই ক্যাম্পের তিনটি ব্লকের (এ, বি ও সি) দেখভাল করেন রোহিঙ্গা আবদুল হাফেজ (৪৫)। রোহিঙ্গারা তাঁকে ডাকেন ‘চেয়ারম্যান’ বলে। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পে আগে ছিল ৭ হাজার ১০২ পরিবারের ৫৭ হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা। গত তিন দিনে যোগ হয়েছে আরও দেড় হাজার পরিবারের অন্তত সাত হাজার রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে তিনজন মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের চক্রান্ত চলছে। সেখানে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় না দিলে তারা বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। কারণ, মংডুর রোহিঙ্গাদের নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় নেই।
কুতুপালং ক্যাম্পে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার আশ্রয় নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ওসি বলেন, কুতুপালংয়ের কয়েকটি পাহাড়ে বৈধ-অবৈধ মিলে লাখো রোহিঙ্গার বসতি রয়েছে। ক্যাম্পের বাইরে ঘেরা নেই। রাতে কেউ পাহাড়-জঙ্গল দিয়ে এ ক্যাম্পে ঢুকলে করার কিছু নেই।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তের নাফ নদীর ৬৩ কিলোমিটারে বিজিবির অতিরিক্ত পাহারা বসানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বিজিবি উখিয়ার কয়েকটি পয়েন্ট থেকে ১২৩ জন রোহিঙ্গাকে প্রতিরোধ করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন নারী ও ৫৫ জন শিশু। নিরাপত্তার অভাবে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা পালিয়ে আসছে।
বিজিবি-বিজিপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক: দুপুরে কক্সবাজার সৈকত এলাকায় বিজিবির রেস্টহাউসে বিজিবির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার গার্ড পুলিশ—বিজিপি) ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠকে বিজিবির ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান। বিজিপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মংডুর ১ নম্বর বিজিপির উপপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সন লিন।
বৈঠক শেষে বিকেলে খন্দকার ফরিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মূলত পরিচিত হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সন লিনকে কক্সবাজারে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারপরও বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছে।
বিজিবির সূত্র বলেছে, বৈঠকে বিজিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমারের কিছু সন্ত্রাসী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ধরে যেন মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। জবাবে বিজিবির কমান্ডার বলেন, গত মাসে টেকনাফে দুই সন্ত্রাসীকে আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
খন্দকার ফরিদ বলেন, বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের অশান্ত পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ, ইয়াবাসহ চোরাচালান বন্ধ, নাফ নদী থেকে অপহৃত বাংলাদেশি জেলেদের ফেরত দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment